গো অ্যাজ ইউ লাইক শুরু হয়ে গিয়েছে। কল্পক স্কুল মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে। যারা সেজেছে তারা এক এক করে ঢুকছে মাঠে। মহাত্মা গাঁধী সেজেছে। একজন। হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, খালি গা, মাথায় টাক, গােল ফ্রেমের চশমা, হাতে লাঠি; লাঠিতে ভর দিয়ে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছে। সামনে একটা বাের্ড। লেখা, ‘আমার জীবনই আমার বাণী। জুতাে পালিশওয়ালা সেজেছে একজন। মাথায় গামছার ফেটি, কাঁধে কাঠের বাক্সে ক্রিম কালি ব্রাশ। ব্রাশের কাঠটা বাক্সে ঠকাস-ঠকাস করে ঠুকছে আর বলছে, “পালিশ! পালিশ?”
সবুজ বাঁচাও মডেল সেজেছে তিনজনের একটা টিম। ভিখারি সেজেছে একজন। ছেড়া পােশাক, খোঁচা-খোঁচা দাড়ি; সুর করে বলছে, “দুটো ভিক্ষে দাও গাে বাবু; কতদিন কিছু খাইনি।”
একটা ছেলে বলল, “কী মিথ্যে কথা রে, তুই তাে একটু আগে টিফিন বাক্স থেকে স্যান্ডউইচ বের করে খাচ্ছিলি।” আশপাশের সবাই হেসে উঠল; কিন্তু ভিখারির কোন বিকার নেই; তেমনই সুর করে ভিক্ষে চেয়ে যাচ্ছে।
দু’জন লাঠিতে ঝাড়ু বেঁধে মাঠ ঝাট দিচ্ছে, সঙ্গে বালতি। বুকে লেখা, “স্বচ্ছ ভারত অভিযান।”
কল্পক সবাইকে দেখছে; খুঁজছে। একজনকে। জয়দীপ। তারও তাে সাজার কথা। তেমনই বলেছিল সে। বলেছিল, “আজ পর্যন্ত স্কুল থেকে একটাও প্রাইজ পাইনি; স্পাের্টসে হাইজাম্প, লংজাম্প, রেস-এ নাম দিয়েছিলাম ক’বার; কিচ্ছু হতে পারিনি; এবার ভাবছি গাে অ্যাজ ইউ লাইকে নামব।”
“কী সাজবি?” জিজ্ঞেস করেছিল কল্পক।।
“কী সাজা যায় বল তাে?” জয়দীপ বলেছিল, “তুই একটা আইডিয়া দে না।”
কল্পক বলেছিল, “চ্যাপলিন সাজবি? আমাদের আগের স্কুলে একটা ছেলে চ্যাপলিন সেজে একবার ফার্স্ট হয়েছিল। কালাে কোট, টুপি, বাটারফ্লাই গোঁফ হাতে ছড়ি আর হুবহু চ্যাপলিনের মতাে। হাঁটাচলা। চ্যাপলিনের কোনও সিনেমা দেখেছিস তুই?”
জয়দীপ বলেছিল, “না তাে?”
“তা হলে কঠিন। শুধু সাজলেই হবে না; চ্যাপলিনের হাঁটাচলা অঙ্গভঙ্গি সব অভিনয় করে ফুটিয়ে ‘অভিনয় আমার দ্বারা হবে না; একবার পাড়ার নাটকে নেমেছিলাম; ভুলভাল সংলাপ বলে, স্টেজে হেসে ফেলে পুরাে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম।” হাসতে-হাসতে বলেছিল জয়দীপ।
কল্পক বলেছিল, “ঠিক আছে, ভাবি একটু।”
ভেবেছিল কল্পক। স্বামী বিবেকানন্দ। গেরুয়া পােশাক, গেরুয়া পাগড়ি পরে হাত দুটো বুকের কাছে ভাঁজ করে দাঁড়িয়ে থাকবে। হে বীর, সাহস অবলম্বন কর, সদর্পে বল, আমি ভারতবাসী; ভারতবাসী আমার ভাই...' ইত্যাদি।
জয়দীপ জিজ্ঞেস করেছিল, “তুই সাজবি না?”
“না-না, আমি সাজব না।” কল্পক বলেছিল, “আমার লজ্জা করে
লজ্জা নয়, আসলে নতুন স্কুলে এখনও ঠিকমতাে মানিয়ে নিতে পারেনি সে। না হলে আগের স্কুল গঙ্গাধর বিদ্যানিকেতনে পড়ার সময় দু’বার গাে অ্যাজ ইউ লাইকে নাম দিয়েছিল; প্রাইজও পেয়েছিল একবার। কিন্তু এটা তাে নতুন স্কুল। ক্লাস নাইনে ভর্তি হয়েছে এবছর। ক্লাস করেছে মাত্র ক'টা দিন; একটা ছেলের সঙ্গেই ঠিকমতাে বন্ধুত্ব হয়েছে। সে জয়দীপ।
কল্পকের বাবা হঠাৎ বদলি হয়ে এসেছেন কমলপুরে। বাবা যে কোম্পানিতে চাকরি করেন সেই কোম্পানির নতুন প্রজেক্ট হচ্ছে। এখানে। বেশ ক'বছর থাকতে হবে। পুরনাে স্কুল ছাড়তে হয়েছে। তাই। উহ, সে যে কী কষ্ট! নবারুণ, তৃণাঙ্কুর, স্নিগ্ধদীপ, জিষ্ণু, ঋভু, কিন্নর কত বন্ধু। সবাইকে ছেড়ে চলে আসতে হয়েছে। সবাই বারবার বলছিল, “চলে যাবি কল্পক; তাের বাবাকে বল না; কোম্পানিকে বুঝিয়ে বলতে, ইশ, তােকে খুব মিস করব ।
কল্পক কী বলবে! বাবার বদলির কথা যখন শুনল তখনই তাে সে বলেছিল, “কিন্তু বাবা, আমার স্কুল?”
বাবা বলেছিলেন, “এখন অগস্ট, এ বছরটা তুমি এখানেই পড়বে, মায়ের সঙ্গে থাকবে; আমি ক’টা মাস অফিস ক্যান্টিনে খেয়ে চালিয়ে নেব। তারপর সামনের জানুয়ারিতে নতুন সেশন শুরু হলে কমলপুরের স্কুলে। ভর্তি করে দেব তােমাকে। আমি খবর নিয়েছি, আমাদের সাইটের খুব কাছেই একটা স্কুল আছে, বেশ ভাল স্কুল, গত বছরই একটা ছেলে টেস্থ হয়েছিল, ওই স্কুলেই নাইনে ভর্তি হবে তুমি।”
স্কুল, বন্ধু সব ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে যেতে হবে ভেবে চোখে জল এসে গিয়েছিল কল্পকের। বলেছিল, “বাবা, তােমার ট্রান্সফারটা ক্যানসেল করানাে যায় না?”
বাবা বলেছিলেন, “কোনও উপায় নেই, আমাদের চাকরির শর্তই এটা। তবু তাে আমি টানা আট বছর এক জায়গায় থাকলাম, এতদিন। একটানা একজায়গায় কেউ থাকে তাই গঙ্গাধর বিদ্যানিকেতন ছেড়ে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সে। সত্যিই স্কুলটার স্ট্যান্ডার্ড বেশ ভাল, কয়েকটা ছেলে বেশ শার্প, কয়েকদিন ক্লাস করেই বুঝে গিয়েছে। কল্পক। আগের স্কুলে স্ট্যান্ড করত সে, এখানে সেটা কঠিন হবে।
ক’দিনে আর-একটা ব্যাপার লক্ষ করেছে কল্পক। ক্লাসের ছেলেগুলাে তেমন মিশুকে নয়। কয়েকটা গ্রুপ আছে ক্লাসে। গ্রুপের মধ্যেই সবসময় গল্পগুজব কথাবার্তা, বই, খাতা আদান প্রদান চলে।
নতুন ভর্তি হয়েছে কল্পক; কিন্তু কেউই এগিয়ে এসে ভাব জমায়নি। প্রথম চার-পাঁচদিন পর বেশ ঘাবড়েই গিয়েছিল কল্পক। এ কেমন ব্যাপার রে বাবা; কারও সঙ্গেই তাে বন্ধুত্ব হচ্ছে না। কল্পক নিজে থেকে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কেমন যেন দায়সারা উত্তর পেয়েছে। খুব হতাশ হয়ে পড়েছিল সে। আগের স্কুলে ক্লাস এইটে ভর্তি হয়েছিল কিন্নর। মনে।
আছে, প্রথমদিনই তারা চারপাঁচজন কিন্নরের কাছে গিয়ে নামটাম জিজ্ঞেস করে ভাব জমিয়ে নিয়েছিল।
কিন্তু এখানে তাে কেউই তেমন করছে না। তা হলে কি নতুন ইস্কুলে বন্ধুই হবে না তার? তখন আরও বেশি করে মনে পড়ে যাচ্ছিল পুরনাে ইস্কুলের কথা। পুরনাে বন্ধুদের কথা।
সেই সময়েই জয়দীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেল। সেদিন টিফিনের সময় একা বসেছিল কল্পক। টিফিন খেয়ে একটা উপপাদ্য দেখছিল। একটা ছেলে বসল পাশে এসে। ছেলেটাকে আগে দেখেনি কল্পক। সম্ভবত প্রথম ক’টা দিন অ্যাবসেন্ট ছিল। পাশে। বসে ছেলেটা বলল, “তােমার নাম কল্পক তাে?”
কল্পক বলল, “হ্যাঁ, কল্পক ব্যানার্জি।”
ছেলেটা বলল, “আমি জয়দীপ। তােমার আর আমার রােল নম্বর পরপর, আমার উনপঞ্চাশ আর তােমার পঞ্চাশ।”
কল্পক বলল, “তুমিও কি নতুন ভর্তি হয়েছ?” “না-না, আমি ফেল করেছি।
নিজের ফেল করার সংবাদটা। প্রথম দিনই ভারী নিস্পৃহভাবে দিয়ে দিয়েছিল জয়দীপ। একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল কল্পক। কী বলবে বুঝতে পারছিল না। | জয়দীপই অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়েছিল। হেসে বলেছিল, “সামনের বার তােমার রােল প্রথম দিকে চলে যাবে, দেখে নিয়াে।”
কল্পক বলেছিল, “তােমারও তাে যেতে পারে; একবার ফেল হয়েছে।
তাে কী হয়েছে। কোনও কারণে হয়তাে প্রিপারেশন ভাল হয়নি।”
“দুরদুর, প্রিপারেশন। আবার কী?” জয়দীপ বলে উঠল,
“লেখাপড়া ভাই আমার মাথায় ভাল ঢােকে না; পড়তে ভালও লাগে না। যাক গে, তুমি ফেল করা ছেলের
সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে তাে?”
“নিশ্চয়ই, সে কী কথা!” বলে উঠল কল্পক।
“এখানে ভাল ছেলেরা আবার ডবগা পাওয়াদের সঙ্গে মেশে না। বিরাট ঘ্যাম সব। তুমি যদি বন্ধু হও তাে ভাল; না হলে, একটা বছর দেখতে-দেখতে কেটে যাবে। একটা বছরের ব্যাপার তাে মােটে।”
কল্পক একটু অবাক হয়ে বলল, “একটা বছর কেন!
“এই স্কুলে পরপর দু’বছর ফেল করলে রাখে না; টিসি দিয়ে দেয়। আমার তাে একবছর হয়ে গেছে, পরের বারও ফেল করব।”
কল্পক বলে, “না-না, ফেল করবে কেন! একটু মন দিয়ে পড়াে; ক্লাসে। স্যারেরা যা বলেন মন দিয়ে শােনাে, তারপর টিউটরের কাছে সেগুলাে প্র্যাকটিশ করাে।
“টিউটর!”
“হ্যাঁ, প্রাইভেট টিউটর; যাদের কাছে টিউশন নাও তুমি।” বলে কল্পক।।
“ধুস, আমার টিউটরফিউটর নেই কিছু।”
একটু অবাক হয়ে কল্পক বলে, “তুমি টিউশন নাও না? বিশেষ করে ভাইটাল সাবজেক্টগুলাে, অঙ্ক ইংরিজি, সায়েন্স!”
“না-না,” জয়দীপ বলে, “প্রাইভেট টিউটর নেই আমার।”
ঠিক তখনই কল্পকের চোখে পড়ে জয়দীপের জামার কলারটা ফাটা আর বুক পকেটের নিচে একটা রিফু। ওই রিফু আর ফাটা কলারই যেন বলে দিচ্ছে, কেন জয়দীপের প্রাইভেট টিউটর নেই। সে তাই বলে, “ক্লাস টিচারদের নােটস ফলাে করলেও অবশ্য হবে; পাস মার্ক ভালভাবেই উঠে যাবে।”
জয়দীপ বলে, “ঠিক আছে, বলছ যখন এবার উঠে পড়ে লাগব; পাস করতেই হবে। পাস করলে আর কিছু
হােক, তুমি আমি আরও একটা বছর একসঙ্গে পড়তে পারব।”
তারপর কটা দিনেই বন্ধুত্বটা জমাট বেঁধে গেল দু’জনেই। পাশাপাশি বসা, টিফিন ভাগ করে। খাওয়া, ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’। এর মধ্যেই নােটিশ পড়ে গেল ক্লাসে ক্লাসে। স্পাের্টসের নােটিশ। জানুয়ারি সাতাশ, আঠাশ স্পাের্টস্। উনত্রিশ তারিখে গাে অ্যাজ ইউ লাইক। গাে। অ্যাজ ইউ লাইক, টিচারদের টাগ অব ওয়র দিয়ে স্পাের্টস শেষ। তারপর।
২
প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন। এই গাে অ্যাজ ইউ লাইকেই সাজার কথা ছিল। জয়দীপের। কী সাজবে সেই যুক্তি করেছিল দু’জনে। কল্পক বলেছিল, “দাঁড়া একটু ভাবি; ভেবে বলব।”
ভেবেও ছিল কল্পক। স্বামী বিবেকানন্দ, কিন্তু সেই ভাবনার কথা জয়দীপকে বলা হল কই! পরদিন। থেকেই তাে স্কুলে আসছে না সে। একদিন-দু’দিন করে দেখতে-দেখতে স্পাের্টস এসে গেল। জয়দীপের। দেখা নেই। কী হল ছেলেটার? কঠিন কোনও অসুখ বিসুখ? বাড়ি বলেছিল কমলপুর জোড়া মন্দিরতলায়। জায়গাটা কোথায় জানে না কল্পক। কমলপুরের কতটুকুই বা সে চেনে! ক্লাসের কয়েকজনকে কল্পক জিজ্ঞেস করেছিল জয়দীপের কথা। কেউ কিছু বলতে পারেনি। একজন তাে চিনতেই পারল না জয়দীপকে। ফোন নম্বরটাও নেওয়া হয়নি। এখন আফসােস হচ্ছে। ইশ, নম্বরটা যদি নিয়ে রাখত।
স্পাের্টসের প্রথম দু’দিন মাঠে যায়নি কল্পক। কী হবে গিয়ে! নিজে নাম দেয়নি, তেমন বন্ধুও কেউ হয়নি যার সঙ্গে একটু গল্পটল্প করবে। কিন্তু আজ সকাল থেকে কেবল মনে হয়েছে, একবার গেলে হয় মাঠে; আজ গাে অ্যাজ ইউ লাইক; জয়দীপ বলেছিল সাজবে। গাে অ্যাজ ইউ লাইকে তাে নাম দেওয়ার দরকার নেই; সেজেগুজে মাঠে চলে গেলেই হবে। বলা যায় না, হয়তাে জয়দীপের মাথাতেই কোনও প্ল্যান এসেছে; সেইমতাে সেজেগুজে মাঠে চলে এল।
তাই কল্পক এসেছে মাঠে। একাএকা ঘুরছে আর যারা সেজে মাঠে আসছে তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে দেখছে। জয়দীপ নাকি?
মাঠের উলটো দিকে ছােটখাট ভিড় একটা। কে নাকি রবীন্দ্রনাথ সেজেছে। তাড়াতাড়ি পা চালাল কল্পক। গিয়ে দেখল রবীন্দ্রনাথকে। না, জয়দীপ নয়। তবে তাদের ক্লাসেরই ছেলে। ধপধপে সাদা চুল, সাদা গোঁফদাড়ি, পরনে জোব্বা ধরনের পােশাক। সামনে ছােট কাঠের চৌকির উপর খাতা রেখে একদম আসলের মতাে। ছাত্ররা সবাই চলে গিয়েছে। স্যারেরাও চলে যাচ্ছেন একে-একে। শীতের দিনের সূর্য এর মধ্যেই হেলে পড়েছে। মাঠের এক কোণে বসে কল্পক আর জয়দীপ। পাশে ফাঁকা ঝালমুড়ির টিন।
কল্পক বলল, “স্কুলে আসছিস না কেন?”
একটু চুপ করে থেকে জয়দীপ বলল, “কখন আসব?”
“কেন?”
“ঝালমুড়ি বিক্রি করতে হচ্ছে যে!”
ঝালমুড়ি, মানে?” কল্পকের গলায় প্রবল বিস্ময়।
জয়দীপ বলে, “বাবা বিক্রি করত ট্রেনে। কিন্তু ক'দিন আগে ট্রেন থেকে পড়ে গেছে। মারাত্মক চোট, একটা পা বাদ গেছে। এখনও হাসপাতালে। আর কোনওদিন কাজে বেরতে পারবে না। তাই আমাকেই বেরতে হচ্ছে। আজ সকালেও বিক্রি করেছি। দুপুরে ভাত খেতে এসেছিলাম,
মনে হল, আজ তাে গাে অ্যাজ ইউ লাইক, ঝালমুড়িওয়ালাই সাজি; তাের সঙ্গেও দেখা হতে পারে। ফার্স্ট হয়ে যাব, ভাবিনি। যাক, একটা আফশােস ছিল, স্কুল থেকে কোনওদিন প্রাইজ পাইনি; শেষ।
পর্যন্ত পেলাম একটা।”
কথা বলতে পারে না কল্পক। শুধু তাকিয়ে থাকে জয়দীপের দিকে।
মৃদু হেসে জয়দীপ বলে, “দেখ, লেখাপড়া তাে বেশি কিছু হত না আমার; ঝালমুড়িই হয়তাে বিক্রি করতাম শেষ পর্যন্ত; একটু আগে শুরু করে দিলাম, এই যা। যাক, ট্রেনে যদি কোনওদিন দেখা হয় এই ঝালমুড়িওয়ালাকে চিনতে পারবি জয়দীপের হাতটা চেপে ধরে কল্পক। বুকের মধ্যে একটা কষ্ট পাকিয়ে উঠছে।
জয়দীপ বলে, “তুই হয়তাে বড় এক অফিসার হয়ে গেছিস তখন কিংবা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা; পারবি তাে চিনতে ঝালমুড়িওয়ালাকে?”
বুকের কষ্টটা চোখের জল হয়ে। ফোঁটা-ফোঁটা নেমে আসে কল্পকের গাল বেয়ে। আরও শক্ত করে সে চেপে ধরে জয়দীপের হাত। তার ওই নিবিড় চেপে ধরা হাত আর চোখের জল যেন ফিসফিস করে জয়দীপের কানের কাছে বলছিল, ‘পারব রে, পৃথিবীর যেখানে যে অবস্থাতেই তােকে দেখি, ঠিক চিনতে পারব দেখে নিস বন্ধু।
Tags
Ullas Mollik
