প্রেতযোনি - তিলোত্তমা মজুমদার Pret Joni pdf by Tilottama Majumder

প্রেতযোনি - তিলোত্তমা মজুমদার Pret Joni pdf by Tilottama Majumder
তারা বেরিয়ে পড়ল। গাড়িতে উঠে রঞ্জন বললেন, 'এরা লোক ভাল নয়। বাচ্চা উদ্ধার করা সহজ হবে না। অত লোক এনে ফেলল কী করে বলো তো? আমরা তো খবর দিয়ে আসিনি।'
যে তিনজন যুবক সঙ্গে ছিল, তার মধ্যে মইদুল বলল, ‘আপনি যখন আমাদের ডেকে পাঠালেন রঞ্জনভাই, তখন কার্যালয়ে এ পাড়ার একজন ছিল। এদের সম্পর্কে একটু খোঁজখবর নিচ্ছিলাম। পাড়ায় এদের সুনাম নেই। ওই যে সরোজকে দেখলেন, তারই বউকে নাকি এরা মেরে ফেলেছিল। গর্ভবতী ছিল মেয়েটা। অত লোক সব ওই বাড়িতে থাকে। ওদের বড় তাঁতের কারখানা। তার সব কর্মচারী।'
দেশবন্ধু ময়দানের কাছে নেমে গেল তিনজন। নীতা বলল, 'একটা কথা বলব রঞ্জনভাই?'
'বলো।'
‘আপনি আমার বড় ভরসা। আমার নিকটতম বন্ধু আপনাকেই বলতে পারি।'
‘সে তো আমার সৌভাগ্য নীতা। আমি তো বন্ধু হতেই চাই।'
‘আপনি সর্ব কাজে আমাদের পাশে আছেন। মায়ের জন্য আপনি যা করছেন, নির্মলও অত করত কিনা জানি না। নীপার জন্য যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়লেন....কীভাবে আপনাকে কৃতজ্ঞতা জানাব!
‘কৃতজ্ঞতা কীসের নীতা? আমি লোকের জন্য করি, কারণ উপকারে লাগতে আমার ভাল লাগে। আর তোমাদের কথা একেবারেই আলাদা। আমাদের তো আজকের সম্পর্ক না। আমার বাবা আর তোমার ঠাকুরদা ছিলেন বন্ধু। আমার সবচেয়ে ছোটকাকা, বিয়ে-থা করেননি, অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন অবিনাশকাকার বন্ধু ও সহপাঠী।'
“তাঁর কথা বাবা আজও বলেন। আর নিজের মাসি নেই বলে মাকে মাসি ডাকেন জানি। তবে আমার আপনি বিশেষ বন্ধু, এই কথাটা আপনাকে জানাতে খুব ইচ্ছে করল। সেই অর্থে একমাত্র বন্ধুই আপনি। আমি তো খুব মিশুকে না। ভাবাবেগ কম। কেজো মানুষ।'
‘তুমি একজন সমাজসেবী চিকিৎসক। শুধুমাত্র অর্থ রোজগারে মন না দিয়ে তুমি দেশের কাজ করছ। এই রকমই থেকো তুমি নীতা। তোমার বন্ধু হওয়া আমার পক্ষে গর্ব ও সৌভাগ্যের বিষয়। তোমাকে আমি শ্রদ্ধা করি।
www.boierpathshala.blogspot.com
নীতা চুপ করে রইল। তার ইচ্ছা করছিল বলে, শুধু শ্রদ্ধা? আর কিছু নয়? কিন্তু কিছুতেই বলতে পারল না। গাড়ি বাড়ি অবধি এসে পড়ল। ফটক খুলে দিল সাদেক। নীতা, অবতরণ করার আগে, আরও একবার রঞ্জনের হাত চেপে ধরে বলল, ‘নীপার কী হবে, রঞ্জন? শুধু রঞ্জনই বলব আপনাকে এখন থেকে।'
“বেশ তো। সুন্দর শুনতে লাগছে.... নীপার বিষয় সহজ সরলভাবে মিটবে না নীতা। চলো, অবিনাশ কাকার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।” আজ এক চমৎকার চাঁদনি রাত ছিল, সাদেকের সযতন নির্মিত বাগান থেকে দোলনচাঁপার গন্ধ আসছিল, রবীন্দ্রসংগীতের মৃদু সুর ভেসে আসছিল রেবার দোতলার ঘর থেকে, সেই সুরের মধ্যে নিহিত আখরগুলি কান পাতলে বোঝা যেত—
কে উঠে ডাকি মম বক্ষোনীড়ে থাকি।
করুণ মধুর অধীর তানে বিরহবিধুর পাখি......
আজ আকাশ পরিষ্কার। রাস্তার কুকুরগুলি পর্যন্ত এমন মধুমস্ত পরিবেশে নীরবতা অবলম্বন করেছিল। আকাশের অসংখ্য তারা জ্বলতে জ্বলতে নিভতে নিভতে অপেক্ষা করছিল এক নিবিড় প্রেমের সূচনার জন্য। কিন্তু তা হয়ে উঠল না। রঞ্জনের রবীন্দ্রনাথ রচিত 'রক্তকরবী' নাটক বহুবার পড়া ছিল। দেখা ছিল নাটকের মঞ্চাভিনয়। যে সরসতায় সপ্রেমে তিনি বলতে পারতেন— তা হলে আজ থেকে তুমি আর নীতা নও আমার কাছে। তুমি নন্দিনী। আপত্তি আছে তোমার? ... সেই সরসতা উৎসারিত হল না। নীপার সৃষ্ট জটিল সমস্যা তাঁকে গ্রাস করেছিল। তিনি নীতাকে সঙ্গে করে অবিনাশের কাছে গেলেন। সকল বর্ণনা করলেন। অবশেষে জিজ্ঞেস করলেন, ‘পুলিশপ্রধান আইয়ুব সাহেবের সঙ্গে কথা হয়েছে আপনার? '
অবিনাশ বললেন, “নীপাকে দিয়ে অভিযোগ দায়ের করে রাখা জরুরি, তিনি বললেন। বাকি যে কোনও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।'
‘খুব ভাল। আমার মনে হয়, নীপার স্বামী ফেরা পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আগে মনোজের সঙ্গে নীপার দেখা হোক। নীপার মন এখন বিচলিত। আরও শান্ত হোক  ত রপর তার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে।
তবে যেভাবেই হোক, বাচ্চাটা আশা দরকার।

তিলোত্তমা মজুমদার এর pdf book প্রেতযোনি pdf download করুন এখান থেকে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post