উনকি pdf - সমরেশ মজুমাদার Unki pdf by Samaresh Majumder book pdf link
বুধুয়া নামে ছেলেটা তার বন্ধু মাংরার সঙ্গে দাঁড়িয়ে অধীর হয়ে অপেক্ষা করছিল খেলা শুরুর জন্যে। ডাক শুনে এগিয়ে এল।
খোকন তাকে জিজ্ঞেস করল, “ওই মেয়েটার চোখের ওপর কী হয়েছে রে?”
বুধুয়া মুখ ফিরিয়ে মেয়েটাকে দেখল। তার পর হেসে বলল, “ওটা অনেকদিন ধরে ওর কপালে আছে। একটু একটু করে বড় হচ্ছে। ব্যথা নেই। শুধু ওই চোখে ভাল করে দেখতে পায় না, কিন্তু অন্য চোখে সব কিছু ভালভাবে দেখে।”
শুনতে শুনতে অতীনের মুখ থেকে বেরিয়ে এল, “ডাক্তার দেখিয়েছে তো!”
প্রশ্নটা বুধুয়াকে করল মাংরা। শুনে মাথা নাড়ল বুধুয়া, “আমি জানি না।”
খেলা শুরু হল। কিন্তু আজ খেলা যেন জমছিল না। হাফটাইমের সময় অতীন দেখল, বালিকা সেই একই ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে শিশুকে পিঠে নিয়ে। কিছু না ভেবে সে হাত নেড়ে বালিকাকে কাছে ডাকল।
কিন্তু দু'বার হাত নাড়ার পর যেই দীপু চিৎকার করে বলল, “এই, ইধার আ,” অমনি বালিকা পেছন ফিরে দৌড়ে চলে যেতে লাগল যেদিকে গত সন্ধ্যায় সে গিয়েছিল।
হতাশ হয়ে দীপু বলল, “যাহ্, চলে গেল।”
অতীন মাংরাকে জিজ্ঞেস করল, “ওকে ওর বাবা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে?”
মাথা নাড়ল মাংরা, “আমি জানি না।”
“তুই জানিস?” বুধুয়ার দিকে তাকাল অতীন।
মাথা নেড়ে নিঃশব্দে না বলল বুধুয়া ।
এর পরে ওদের খেলাটা শুরু হল বটে কিন্তু কোথাও যেন তাল কেটে গেল। আজ খেলা জমল না। অতীন লক্ষ করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধ্বের খেলা শুরু হওয়ার পরে বালিকা পায়ে পায়ে ফিরে এসেছিল তার জায়গায়, যেখানে সে আগে দাঁড়িয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার পর দুটো মদেশিয়া ছেলের পেছন পেছন বালিকা তার বাসায় চলে গেল।
আজ তাড়াতাড়ি খেলা শেষ হয়ে যাওয়ায় গাছের মাথায় ছায়া ঘনায়নি। ওরা ছ'জন মুখোমুখি বসেছিল। খোকন বলল, “আমি বাজি রেখে বলতে পারি ওই মেয়েটার কোনও চিকিৎসা হচ্ছে না।”
বল!”
“কী করে বলছিস?” দীপু জিজ্ঞেস করল।
“চা-বাগানের হাসপাতালে চোখের ওপর কি অপারেশন হয়? তোরা
“না, হয় না। সাধারণ অসুখের ওষুধ পাওয়া যায় ওখানে, সামান্য জটিল হলে হয় জলপাইগুড়ি অথবা শিলিগুড়ির হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। বিস্তর ঝামেলা বলে গরিব শ্রমিকদের পরিবারের অসুস্থ রোগীকে বাড়িতেই ফেলে রাখতে হয়। চা-বাগানের হাসপাতাল থেকে যা ওষুধ দেয় তাই খাইয়ে আশায় বুক বাঁধতে হয়। আর সেই কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফল খারাপ হয়।”
এই মেয়েটার চিকিৎসা নিশ্চয়ই হচ্ছে না। কিন্তু এক চোখে ভাল করে না দেখতে পাওয়া সত্ত্বেও ও রোজ ফুটবল খেলা দেখতে আসে কেন, তা বুঝতে পারছিল না অতীনরা। এর আগে ওকে তাদের চোখে পড়েনি। তা ছাড়া আসে যখন, একটা শিশুকে পিঠে বেঁধে নিয়ে আসে, শিশুটা ওর ভাই অথবা বোন নিশ্চয়ই।
আজকের খেলা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ায় বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়েছিল বুধুয়া আর মাংরা। কিশোর তাদের কাছে ডাকল। জিজ্ঞেস করল, “এই, ওই মেয়েটার চোখের ওপরে কী হয়েছে রে? জানিস তোরা?”
দু'জনেই নিঃশব্দে মাথা নেড়ে না বলল।
“তোদের এক জন ছুটে গিয়ে ওকে এখানে ডেকে নিয়ে আয়।” পকেট থেকে একটা লজেন্স বের করে দেখাল কিশোর, “বলবি লজেন্স দেব।”
সমরেশ মজুমাদার এর pdf book উনকি pdf download করুন এখান থেকে।
Tags
Samaresh Majumder
