অমৃত সন্ধানে - বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় Amrita Sandhane by Bappaditya Chattopadhyay

অমৃত সন্ধানে pdf download - বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায় Amrita Sandhane pdf by Bappaditya Chattopadhyay


সূর্যের আলােয় চোখ ধাঁধিয়ে গেল তমালের। ভেঙে গেল ঘুম। ভাঙল গানের রেশ নিয়ে। অনেক দিন পরে মনে পড়ল গ্রামের কথা। করােনার কারণে এই বছর জয়দেব মেলা না হওয়ায় হবে না যাওয়া। মা-বােন প্রতি বছর না গেলেও নিজে নিয়ম করে মেলার সময় যায়। দেখা হয় টিকরবেতার সঙ্গে, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে। আত্মীয়রা বেশির ভাগই ওখানে আর থাকে না। তমালের মতােই মেলার সময় আসে। টিকরবেতাও আর আগের মতাে নেই। থেমে গিয়েছে ঠকঠাক। প্রায় কেউই আসেনি পিতল-কাঁসার পৈতৃক পেশায়। বদলে গিয়েছে। জয়দেবও। আশ্রম-সংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে জমির দাম।
এক সময়ের ভরা অজয় আজ শুকনাে প্রায়। সেই চরেও আশ্রম। হােটেল গড়ে না উঠলেও তৈরি হয়েছে রিসর্ট। কলকাতার বাবু। বিবিদের উইকএন্ড টুর স্পট। বাইরে থেকে কুঁড়ে মনে হলেও ভিতর হােটেল-সমান। গ্রামীণ হাটও আর আগের মতাে নেই। হয়েছে পাকা ছাউনি। নেই নিম্বার্ক আশ্রমের পিতলের রথও। বদলে ছােট লােহার রথ। বাস রুট বেড়েছে, বেড়েছে মােবাইল, বাইকের ব্যবহার। অপেক্ষা শুধু অজয়ের উপরে ব্রিজের। ভােল বদলে যাবে এলাকার।
বদলেছে জয়দেব মেলাও। বাউলের মেলা আজ কীর্তনীয়াদের দখলে। বিরাট আলাে ঝলমলে আখড়ায় কীর্তনের আসর। রাধাবিনােদ। মন্দির চত্বরের বদলে দোকানপাট বেশির ভাগই অজয় চরে। সেখানেও বড়-বড় আখড়া। যে মেলা হ্যাজাক, লণ্ঠনের আলােয় শুরু হয়েছিল অক্ষয় বটতলায়, সেই মেলাই এখন মাইক-বক্সে গমগমে, ঝমঝমে। গরুর গাড়ির বদলে পার্কিং লটে হাজার-হাজার গাড়ি-বাইক। মেলার রেশ গড়িয়েছে ও পারেও। আখড়া না থাকলেও থাকে পার্কিং লট, দোকানপাট। অনেক দিন পরে গ্রামের কথা মনে পড়লেও, বাবার কথা মনে পড়ে রােজই। এই পর্যন্ত একটা দিনও পার করেনি বাবাকে স্মরণ
করে। তবে ছােটকাকার ফোনের পরে সারাক্ষণই মনজুড়ে বাবা। মীনাক্ষীরও নিশ্চয়ই তাই। তবুও তমাল দশ-বারাে বছর পেয়েছে। পিতৃসান্নিধ্য, মীনাক্ষীর তাে মনেই নেই। তমালের মুখে শুনেই অনুভব করেছে পিতৃটান। ভাল লাগে তমালের, গর্বও হয়। এক জন মানুষকে কতটা অনুভব করলে পরে অন্যের আকর্ষণের বিষয় করা যায়! তখন ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি পিতৃতর্পণই হবে চরম অমঙ্গলদায়ক।
প্রায় ভাের রাতে ফিরেছে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে। ড্রাইভারের অসুবিধের জন্য ইচ্ছে থাকলেও থাকা যায়নি। সারা রাস্তা মীনাক্ষী শুনিয়েছে হরিদ্বারের পরিকল্পনা। ইন্টানেটে দেখেছে করােনার জন্য সরাসরি হরিদ্বার যাওয়ার ট্রেন আপাতত নেই। সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিল্লির ট্রেন আছে, তাই দিল্লি হয়েই হরিদ্বার যাবে। হােটেলের অ্যাভেলিবিলিটিও দেখে নিয়েছে। কী ভাবে খুঁজবে সেই প্ল্যানও করে ফেলেছে। অদ্ভুত বিষয়, বিয়ের ডেট এবং অনুজ প্রসঙ্গ এক বারও তােলেনি। যেন বিয়ে ঠিকই হয়নি! তবে একটা বিষয়ে নিশ্চিত, দাদা। সঙ্গে যাবেই। বােনের উৎসাহের মাঝে তমাল জানাতে পারেনি নিজস্ব সিদ্ধান্ত। চায়নি মাঝরাস্তায় মনকষাকষিও। তবে জানিয়েছে, করােনা উপেক্ষা করে বাবা যদি হরিদ্বারে যায়, তা হলেও কতটা কঠিন তাঁকে খুঁজে বার করা। দমানাে যায়নি মীনাক্ষীকে। শেষ চেষ্টা করবেই।

বাপ্পাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের অমৃত সন্ধানে Amrita Sandhane pdf ডাউনলোড করুন এখান থেকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post