বোতামঘর pdf download - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী Botamghar pdf by Smaranjit Chakraborty
বুচা আমায় চুমু খেতে চায়! ভেবেই আমার গা-টা কেমন যেন করছে। মনে হচ্ছে সারা গায়ে জেকি পড়েছে। কিলবিলে প্রাণী গায়ে পড়লে কেমন লাগে আমি জানি। যদিও কীটপতঙ্গ আমার খুব ভাল লাগে, কিন্তু একমাত্র জোক এমন একটা জিনিস, যা দেখলেই আমার শরীরের মধ্যেটা কেমন করে! সেই ছােটবেলায় এই বাড়ির সকলের সঙ্গে সিকিমে ঘুরতে গিয়েছিলাম একবার। তখন জঙ্গলের মধ্যে বড় গাছ থেকে আমার মাথায় আর গরম জামার মধ্যে জোঁক পড়েছিল!
এই গা ঘিনঘিনে ব্যাপারটা আমি অনুভব করি আলােজেঠুর ঘরে গেলেও। আর আজকে লাগল বুচার কথা শুনে! ও পেটে-পেটে যে এমন কিছু পাকাচ্ছে, সেটা সত্যিই আমি এত দিন বুঝতে পারিনি!
লােডশেডিং তাে কলকাতার নিত্যদিনের ঘটনা। স্যারের বাড়িতেও আজ আলাে চলে গিয়েছিল। আমরা সবাই স্যারের ছাদের ঘর থেকে ছাদে বেরিয়ে এসেছিলাম। যদিও পড়া হয়ে গিয়েছিল, তাও স্যার সবাইকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন এই বলে যে, উনি দশটা অঙ্কের এটা সেট আমাদের দেবেন। সেটা পরের দিন যেন সবাই সলভ করে আনি।
টিউশনে ছেলেমেয়ে মিলে মােট চোদ্দো জন পড়ি আমরা। স্যারের ছাদে সবাই বসে আড্ডা মারছিল। আমি সবার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে সন্ধে হয়ে আসা কলকাতাকে দেখছিলাম।
এই সময়টা আমার দারুণ লাগে! আকাশের চুড়াটা কেমন যেন ঘন নীল হয়ে থাকে। আর সেখান থেকে বরং পাল্টাতে পাল্টাতে দিগন্তে এসে আকাশটা কেমন আবছা কমলা হয়ে যায়। সূর্য ডুবে যাওয়ার ব্যাপারটা অনেকটাই যেন প্রিয় মানুষ চলে যাওয়ার মতাে। সে চলে যায়, কিন্তু তার ভালবাসার আভা ছড়িয়ে থাকে মনে, আকাশে। | মাঝে-মাকে আমার মনে হয় ভালবাসা ছাড়া আর কী-ই বা আছে। জীবনে! এমন আকাশ যত বার দেখি, তত বার আমার জুলুর কথা মনে পড়ে! আর সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকের মধ্যেও অমন একটা সূর্য ডুবে যাওয়ার পরের মালা আভা ছড়িয়ে পড়ে।
এই তাে পা আমায় সে দিন বলেছিল, “তুই ফালতু সেন্টিমেন্ট ধরে বসে আছিস। ভালবাসা ইজ নট ইমপর্ট্যান্ট। এনজয়মেন্ট ইজ ইমপর্ট্যান্ট।”
“মানে?” আমি খুব অবাক হয়েছিলাম এপার কথায়। | ওপা বলেছিল, “আমি যার সঙ্গে এনজয় করি, তাকে সময় দিই। যেদিন এনজয়মেন্ট থাকবে না, তাকে ফুটিয়ে দেব!”
“এনজয়মেন্ট? কার সঙ্গে?” আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।
ওপা হেসে আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে বলেছিল, “বলব বলব, পরে তােকে একদিন বলব।”
আমার মুখ ফস্কে বেরিয়ে গিয়েছিল, "জুলু?” “জুলু!” ওপা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল, “ওর দুধের দাঁত পড়েনি, ও কী।
আমি আর কিছু বলিনি। কোনও কোনও সময় মানুষের কথা শুনে ঝে নিতে হয় যে, এর পর কথা বাড়ালে সেটা শক্তি ও সময় ক্ষয় ছাড়া আর কিছু নয়।
কিন্তু সেই মেয়েই সে দিন বিকেলে রাস্তায় জুলুকে হাত ধরে এরকম হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে গেল কেন! যদি ওকে পছন্দই না করবে, তা হলে ওকে ওইভাবে নিয়ে যাওয়ার মানে কী!
আমার খুব খারাপ লেগেছিল। এমনিতেই জুলু যে আমায় দেখেও দেখে না, সেই ব্যাপারে একটা কষ্ট তাে আছেই! ওই যে ফিজিক্সোর অঙ্ক দেখিয়ে দিতে বলেছিলাম, সেই ব্যাপারে জুলু কিছু বললই না। সত্যিই আমার এই আক্কগুলাে হচ্ছে না। আমি ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হব না। কিন্তু বিএসসি-তে তাে ভর্তি হব। সেটার জন্য ভাল রেজাল্ট না করলে ভাল কলেজে চান্স পাব না যে!
স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর বোতামঘর Botamghar pdf download করুন এখান থেকে।
