মৃত্যু সংকেত pdf download - রাজেশ বসু Mrityu Songket pdf by Rajesh Basu book pdf
কালে ফিরতে লোহার ফটকে ফ্লোরিনকে দেখলাম। তার পার্টনার ক্রোনিদ পোর্টিকোয়। ওখানে একটা ছোট ঘর আছে নজরদারির জন্য। পালা করে দু’জায়গায় বসে দু'জনে। মেন গেটে হয়তো না-বসলেও চলে, সেটা যখন ভিতর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যাই হোক, ফ্লোরিনকে জিজ্ঞেস করলাম, প্রফেসর ডেফনারের হাতে সে দিন ওর কুকুর ছাড়া আর কিছু ছিল কি না?
“কুকুর ছাড়া আর কী থাকবে?” মাথা চুলকোল ফ্লোরিন, “হ্যাঁ, লাঠি নিত একটা হাতে, সেটা নেয়নি। কুকুরটা কোলে ছিল বলেই হয়তো। মাস্কও পরেছিল মুখে। আর তো কিছু মনে পড়ছে না। তা ছাড়া আমার এক বন্ধু ফোন করেছিল। কথা বলতে-বলতে একটু বেখেয়ালি হয়ে থাকব।”
আপাতত আর কিছু জানার নেই। বারোটাও বাজতে চলল। মারিয়াস ভাকারেস্কুর সঙ্গে লাঞ্চ করার কথা দুপুর সাড়ে-বারোটায়। সকালেই মিসেস দাচিয়ানা বলে গেছেন। ঘরে এসে দরজা লক করে রিডিং টেবিলে আমার সাদা রুমালটা বিছিয়ে বোতামটা রাখলাম। ধুলো, কাদা, মাটি লেগে আছে কিছুটা। এমনিতেই খালি হাতে তুলেছি। সত্যিই কাজের জিনিস হলে হাতের ছাপ পাওয়া মুশকিল হবে। মোবাইলে দু'পিঠেরই ফটো নিয়ে রাখলাম। একটু খয়েরি মতো দাগ রয়েছে একটা ধারে। কাদামাটিই, না অন্য কিছু? রুমালে মুড়ে সাবধানে তুলে রাখলাম আমার ব্যাগে। চাবিটা নিয়ে বসলাম এ বার। আমার অনুমান, এটা প্রফেসর ডেফনারের ঘরেরই চাবি। পতনের সময় কোনও ভাবে পকেট থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছিল। কথা হচ্ছে, এটা কি মারিয়াসকে দেব না পুলিশকে দেব? এমনিতেই আমি পুলিশের সঙ্গে এক বার কথা বলতে চাই। যা হোক, দেরি হয়ে যাচ্ছে। আপাতত খাওয়ার ব্যাপারটা সেরে আসি।
ভোজন পর্বটা অবশেষে তিন তলাতেই হল। সে-ও এক রয়্যাল ব্যাপার। বিশ ফুট লম্বা টেবিলের দুই প্রান্তে আমরা দু'জন, আমি আর মারিয়াস। ভেবেছিলাম মিসেস ভাকারেস্কুর সঙ্গে পরিচয় হবে। দেখলাম মারিয়াস একাই অপেক্ষা করছে। মিসেস দাচিয়ানা আর এলভিরা দু'জনে এক সঙ্গে পরিবেশনের দায়িত্বে। অ্যাদ্রিয়ান সম্ভবত ‘ম্যাডাম’কে সার্ভ করছে। কিচেন শুনলাম দুটো ফ্লোরেই আছে। পদের বিবরণে যাচ্ছি না। অনেক পদ। সবই রোমানীয় ডেলিকেসি। রান্নাও ভাল। ঘরের সাজসজ্জাও পিরিয়ড মুভির রয়্যাল ডাইনিংয়ে যেমন হয় সে রকম জমকালো।
“তা কেমন লাগছে আপনার? একটা মিডিভ্যাল ফিলিংস পাচ্ছেন কি?” আমি ঘরে ঢুকতে খোশ মেজাজে জিজ্ঞেস করল মারিয়াস। বললাম, “রীতিমতো। ভাবছি শার্ট, জিন্স, জ্যাকেট সব খুলে রেখে টিউনিক, সারকোট এ সব পরে নিই।”
ফিল্মি কায়দাতে হাসল মারিয়াস, “যতটা সম্ভব চেষ্টা করেছি। প্রচুর খরচ। এত বড় একটা ম্যানসনের মেনটেনেন্স সহজ ব্যাপার না। এই ক’জন লোক মিলে কত পারবে! ভাবছি বিক্রি করে দেব এ বার। হোটেলও করতে পারি। এখন তো এটাই হচ্ছে চার দিকে। ছোট, বড় যত কাল, ফোর্ট, ম্যানসন সব হোটেল হয়ে যাচ্ছে। খুব নামী হলে মিউজিয়াম। নয়তো হোটেল। আপনারা এসে ভালই হল, কয়েক লাইন পোস্ট করে দেবেন আমার সোশ্যাল অ্যাড্রেসে। আপনারা নামী মানুষ, জনগণ গুরুত্ব দেবে।”
“অবশ্যই,” বললাম আমি।
এর পর টুকটাক কথা। জার্মানিতে আমি কী বিষয়ে পড়াই বা গবেষণা করি, মার্ক ডাবলিনে পৌঁছল কি না, এই সব। প্রফেসর ডেফনারের প্রসঙ্গটা তুলেই ফেললাম শেষ পর্যন্ত, “মৃত্যুটা এত দুঃখজনক শুনলাম!”
“আসলে দোষটা আমাদেরই,” একটু জল খেয়ে বলল মারিয়াস, “প্রফেসর ডেফনারকে রোজ-রোজ একলা বেরোতে দেওয়া উচিত ছিল না।
রাজেশ বসুর মৃত্যু সংকেত download করুন এখান থেকে
Tags
Various
