ময়না তদন্ত pdf download by ইন্দ্রনীল স্যানাল Moyna Tadanta pdf by Indranil Sanyal book pdf
পনেরোই আগস্ট সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন বুলুদির জন্যে ফ্ল্যাটের দরজা খুলছে দীপশিখা, তখন কানে মোবাইল। আজ আর ইমোজি চালাচালি নয়। মঞ্চসোনার সঙ্গে আদিখ্যেতা চলছে। ঘেঁটুরানি আদুরে গলায় বলছে, “আজ ন্যাশনাল হলিডে, আউটডোর বন্ধ। তার ওপরে সোমবার। গতকাল আর আজ মিলিয়ে দু'দিনের জন্যে বাড়ি এলে কী ক্ষতি হত?”
“আগামিকালের আগে ছুটি পাচ্ছি না ঘেঁটুরানি। অন্য পিডিয়াটিশিয়ান বাড়ি গেছে।”
“গত বছর দুর্গাপুজোর সময়ও ও বাড়ি গিয়েছিল। এবার পুজোয় আমার ঘঞ্চুসোনাকে ডিউটি করতে হলে বাচ্চাদের ডাক্তার আমার কাছে ব্যাপক ঝাড় খাবে।” চায়ের কাপ আর খবরের কাগজ বারান্দায় রেখে এসেছে বুলুদি। বারান্দার চেয়ারে বসে ফোন কাটল দীপশিখা। কাগজ খুলে দেখল, প্রথম পাতার নীচের দিকে বিশেষ প্রতিবেদনের হেডলাইন, “ভবানীপুর থানার মালখানা পরিষ্কার করতে গিয়ে বেরিয়ে এল থমকে থাকা সময়।' প্রতিবেদনটি বলছে, “ভবানীপুর থানার মালখানায় প্রায় পঁচাত্তর বছর ধরে পড়েছিল পুরনো নানা নথি! ধুলো সাফ করে সেই সব কেস ফাইল পুলিশ জাদুঘরে ঠাঁই পেতে চলেছে...'
পড়তে পড়তে চায়ে চুমুক দিচ্ছে দীপশিখা। প্রতিবেদন অনুযায়ী কেস ফাইলগুলি কালানুক্রমিক সাজিয়ে রাখা হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, কেপমারি, হত্যা, ধর্ষণ— সব রকম অপরাধের ফাইল আছে। একদম শেষে লেখা, ““কলকাতা পুলিশের কমিশনার অমিত চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘আমরা এই সব নথি সংরক্ষণ করব।”
মোবাইল কলকলিয়ে উঠেছে। বরুণের
ফোন। একরাশ বিরক্তি নিয়ে দীপশিখা বলল, “বলুন।”
“ম্যাডাম, কমিশনার সাহেব অমিত চক্রবর্তী ফোন করেছিলেন। পুলিশমন্ত্রী, অনারেল সপ্তর্ষি রায়ও ফোন করে বললেন
‘প্রিয়া দাশ মার্ডার কেস' ক্লোজ় করতে হবে। অনুরোধ নয়, হুকুম। আপনি প্লিজ রিপোর্টটা আজকের মধ্যে কমপ্লিট করুন।”
উত্তর না দিয়ে ফোন কাটল দীপশিখা।
সকালের ফুরফুরে মেজাজ গায়েব। মাথায় বিরক্তি কিলবিল করছে। বিরক্তির বান্ডিল মাথায় নিয়েই হাসপাতাল পৌঁছল। রেডিয়োলজি ডিপার্টমেন্টে ঢুকে মেধার কাছ থেকে ইউএসজি রিপোর্ট সংগ্রহ করে, পুরনোটা ফেরত দিয়ে নিজের ডিপার্টমেন্টে ঢুকল। কেবিনে ঢুকতে না ঢুকতেই বিভাস কাঞ্জিলালের ফোন, “পিএম রিপোর্ট রেডি?”
ইন্দ্রনীল স্যানালের ময়না তদন্ত Moyna Tadanta pdf download করুন এখান থেকে।
Tags
Indranil Sanyal
