একটি গানের মানে book pdf download - বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় Ekti Ganer Mane pdf by Binayok Bondopadhai
ওই টাকাটাই বিকেল সাড়ে চারটে, পাঁচটা নাগাদ ঘুরে আসত ব্যাঙ্কে, পঁচিশ-তিরিশ হাজার অতিরিক্ত সমেত। সেই অতিরিক্তটাই ছিল এই দু'নম্বরির সঙ্গে জড়িতদের লাভ।
ব্যাঙ্কের দৈনন্দিন কাজের কোনও চোখে পড়ার মতাে সমস্যা না করে প্রতিদিন কারও পকেটে পাঁচ, কারও তিন, কারও দুই ঢুকছিল। হয়তাে অনন্তকাল এ ভাবেই চলত কিন্তু সাত দিনের চোরা এক দিন ধরা পড়েই, তাই কোনও এক বৃহস্পতিবার টাকাটা ব্যাঙ্কে ফেরত দিতে আসছিল যে দু’জন, তাদের এক জনের বুকে বুলেট এসে লাগে আর এক জনের হাত থেকে স্যুটকেস ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেয় আরও একটু বড় মাপের মাফিয়ারা। ওদিকে ঘড়ির কাঁটা পাঁচটা পেরিয়ে ছ'টা, ছ’টা পেরিয়ে সাতটা ছুঁইছুঁই হলেও হিসেব মেলানাে যায় না ব্যাঙ্কের টাকার।
ম্যানেজার নিরুপায় হয়ে পুলিশে ফোন করেন। পুলিশ আসার আগেই বাথরুমে যাওয়ার নাম করে কেটে পড়ার চেষ্টা করেছিল সম্রাট কিন্তু ওদের পাপের সঙ্গী সেই পিয়নের ইশারাতেই চার-পাঁচ জন সহকর্মী ওকে পাকড়াও করে ফেলে।
ক্যাশিয়ার এবং সম্রাট সমেত ব্রাঞ্চের আরও তিন জনকে কোমরে দড়ি বেঁধে ভ্যানে তােলে পুলিশ; বেসরকারি সব টিভি চ্যানেলের জন্ম হতে তখনও দশ বছর দেরি ছিল বলেই ব্যাপারটা ‘ব্রেকিং’ হয় না সেই মুহূর্তে। তবে পরদিন অন্তত দুটি খবরের কাগজের তৃতীয় পৃষ্ঠায় বড় করে বেরােয় খবরটা, সম্রাটের ছবি এবং নাম দিয়েই।
মালবিকার বাবার যেটুকু সুস্থতা অবশিষ্ট ছিল, এই এক খবরেই চৌপাট হয়ে গেল। অবস্থা এমন দাঁড়াল যে চার দিনের মাথায় ‘মনবাউল’ বলে মনােরােগীদের সুস্থ করে তােলার একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতেই হল মৌলিনাথকে।
মালবিকার দিদি মধুরা পুরাে ব্যাপারটাকেই ‘চক্রান্ত বলে অভিহিত করে বড় উকিল লাগানাের জন্য মা এবং বােনের উপর চাপ সৃষ্টি করতে লাগল।
সবচেয়ে অবাক করা কাণ্ডটি ঘটালেন মালবিকার মা নিজে। তিনি ছােট মেয়েকে বিয়ের পর দেবেন বলে যে টাকাটা রেখেছিলেন সেটা মধুরাকে দিয়ে দিলেন আর তার পর ‘মন ভেঙে গেছে’র অজুহাতে হরিদ্বারে গুরুদেবের আশ্রমে চলে গেলেন এক মাসের জন্য।
ফলে যা দাঁড়াল, মালবিকা আর সৈকতেশ ছাড়া ওদের দু'জনের বিয়ে সুসম্পন্ন করার জন্য আর কেউ রইল না ধারেপাশে। গােদের উপর বিষফোড়া, প্রায় এক লাখ টাকা সম্রাটের হাতে দিয়ে এক রকম নিশ্চিন্ত ছিল সৈকতেশ, বৌভাতের বাড়ি ভাড়া নেওয়া, ডেকরেশন, কেটারিং ইত্যাদি বিষয়ে, সেটা জলে গেল বলতে গেলে।
“তােমাদের আমার কাছে আর একটু আগে আসার কথা মনে হল না?” সৈকতেশের সঙ্গে মালবিকাকে দেখে প্রশ্ন করলেন, প্রশান্ত সারেঙ্গি।
“আমাদের বিয়ে আর বৌভাত যদি একসঙ্গেই করে দেওয়া যায়...”
মালবিকাকে থামিয়ে দিলেন প্রশান্ত, “নেমন্তন্নের চিঠি যখন চলে গেছে তখন বিয়ে এবং বৌভাত দুটোই হবে। আলাদাই হবে।”
“কিন্তু বৌভাতের বাড়িই এখনও...”।
“সেটার দায়িত্বও আমি নিলাম, চিন্তা কোরাে না,” প্রশান্ত সারেঙ্গি হাসলেন ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে।
সেই হাসিতে একটা অনন্ত ভরসা ছিল কিন্তু তাই বলে গলদা-চিংড়ি? বৌভাতে সাদামাটা ফ্রায়েড রাইসের বদলে বাদশাহি পােলাও? আবার খােদ লখনউয়ের কারিগর এনে বানানাে কাকোরি কাবাব?
“কী আরম্ভ করেছেন এগুলাে? নিজের ব্যবসা লাটে তুলবেন নাকি আমাকে অফিসের পর জুতােপালিশ করতে বসাবেন রাস্তায়?”
“ভাবছি দ্বিতীয়টাই। কিন্তু তার বদলে তুমি আমার অফিসেও স্বেচ্ছাশ্রম দিতে পারাে সৈকতেশ।”
“ইয়ার্কি নয়, আপনি পরপর দু’দিন আমার কথা না শুনে যা নিজের খুশি তাই খাওয়ালেন? ঠিক কতটা লস হবে আপনার কোনও আন্দাজ আছে?”
বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি গানের মানে Ekti Ganer Mane pdf download করুন এখান থেকে।
Tags
Binayok Bondopadhai
