হাতে সময় বড্ড কম pdf download - কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় Hate Samoy Boddo Kom pdf by Krishnendu Mukhopadhyay
রেশমি সেনের রাতে ঘুম উড়ে গেছে। গ্র্যান্ড ফিনালের শুটিংয়ের জন্য হাতে আর একদম সময় নেই। সামনের শনিবার সেমি ফাইনালের এপিসােড টেলিকাস্ট হয়ে যাবে। গােটা পৃথিবীর লােক জেনে যাবে ফাইনালে হাড়িহাড়ি লড়াই হবে সঞ্জনা আর বাপ্পাদিত্যর মধ্যে। প্রোমাের পােস্ট প্রোডাকশনের কাজ হয়ে গিয়েছে। রবিবার থেকে প্রচার শুরু হবে। তার সঙ্গে পাবলিক ভােটিং শুরু হবে। এত আয়োজন কিন্তু শুটিংয়ের লােকেশনই ঠিক হয়নি।
চার দিকে হন্যে হয়ে লােক পাঠিয়েছেন রেশমি সেন। রোহনকে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ওড়িশায়, ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়েছেন। কিন্তু কেউই গ্র্যান্ড ফিনালের উপযুক্ত একটা ভূতের বাড়ির সন্ধান দিতে পারছে না। অফিসে নিজের চেম্বারে রগ-দুটো চেপে বসেছিলেন রেশমি সেন। এমন সময় এসে ঢুকলেন প্রহ্লাদ মিত্র। মুখে যেন কোনও টেনশনই নেই। একমুখ হেসে বললেন, 'গুড মর্নিং ম্যাম। মনে হচ্ছে প্রবলেম সলড়। বাড়ি একটা পাওয়া গেছে। আমি আজই দেখতে যাব।”
চার দিকে হন্যে হয়ে লােক পাঠিয়েছেন রেশমি সেন। রোহনকে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে ওড়িশায়, ঝাড়খণ্ডে পাঠিয়েছেন। কিন্তু কেউই গ্র্যান্ড ফিনালের উপযুক্ত একটা ভূতের বাড়ির সন্ধান দিতে পারছে না। অফিসে নিজের চেম্বারে রগ-দুটো চেপে বসেছিলেন রেশমি সেন। এমন সময় এসে ঢুকলেন প্রহ্লাদ মিত্র। মুখে যেন কোনও টেনশনই নেই। একমুখ হেসে বললেন, 'গুড মর্নিং ম্যাম। মনে হচ্ছে প্রবলেম সলড়। বাড়ি একটা পাওয়া গেছে। আমি আজই দেখতে যাব।”
পাওয়া গেছে? সত্যি?” রেশমি সেন উল্লাসিত হয়ে উঠলেন, “কোথায়?
প্রহ্লাদ মিত্র রেশমি সেনের উল্টো দিকের চেয়ারে গুছিয়ে বসে বলতে শুরু করলেন, “বলছি আপনাকে। আগে বাড়িটার ফটোগুলাে দেখুন। বর্ধমানের গােবর্ধনপুর গ্রামের কাছেই জায়গাটা। হরিমতী পাঠশালা।”
প্রহ্লাদ মিত্র মােবাইলটা বাড়িয়ে দিলেন রেশমি সেনের দিকে। হােয়াটসঅ্যাপে পাঠানাে এক গুচ্ছ ফটো দেখতে-দেখতে রেশমি সেন খুশি হয়ে বললেন, “বাড়িটা তাে দিব্যি মনে হচ্ছে। এত বড় জমিদারবাড়িটার নাম, হরিমতী পাঠশালা?”
“সব বলছি ম্যাম। যা তথ্য জোগাড় করেছি, বাড়িটা একদম পােড়াবাড়ি। কেউ থাকে না। চারদিকে ধুধু চাষের মাঠ। বাড়িটা দেড়শাে বছরের পুরনাে এক জমিদারবাড়ি। স্বাধীনতার আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বাড়ির বাসিন্দারা মামলা-মকদ্দমা করে সবাই ছেড়ে চলে গিয়েছে। পরে তাে জমিদারি প্রথাটাও বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। বাড়িটা আর কোনও দাবিদার ছিল না। বহু বছর আগে গােবর্ধনপুর গ্রামের এক মাস্টারমশাই এখানে নিজের মায়ের নামে একটা পাঠশালা খুলেছিলেন, হরিমতী পাঠশালা। গ্রামের কৃষকদের ছেলেমেয়েদের ধরে-ধরে এনে এখানে পড়াতেন। তবে ক্লাস ফোর পর্যন্ত ছিল। সেই মাস্টারমশাই হঠাৎ করেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে মারা যান। তার পর থেকেই বাড়িটা হন্টেড। দেখুন ফটো দেখেই কেমন গা ছমছম করছে। তিন-চারটে ঘর আছে যেখানে সূর্যের আলাে ঢোকে না। স্বভাবতই এই ঘরগুলাে খুব ঠান্ডা আর এখন তাে শীতকাল। এই ঘরগুলােয় ঢুকলেই একটু বেশি স্যাঁতস্যাঁতে ঠান্ডা মনে হবে। এই ঘরগুলােয়ই টাস্ক রাখব আমরা। গ্র্যান্ড ফিনালেতে তিনটে টাস্ক নতুন বাড়িতে নতুন করে ভেবেছি। এখন শুধু আপনার অ্যাপ্রুভাল দরকার।”
“কে জোগাড় করল বাড়িটা?”
“মাইকেল বিশ্বাস ম্যাম।” মাইকেল বিশ্বাস মানে যার সঙ্গে রােহন কথা বলেছিল?”
“হ্যাঁ ম্যাম। এখন রােহন নেই বলে আমিই কনট্যাক্ট রাখছি। বাড়িটা গ্র্যান্ড ফিনালে করার জন্য একেবারে আদর্শ। একেবারে আমাদের ট্যাগলাইনের মতাে, এরা থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে, বিশ্বাস অবিশ্বাস আপনাদের।”
“আদর্শ বলছেন কেন?”
“তার কারণ, এখানে ভূতের উপদ্রবটা খুব সম্প্রতি শুরু হয়েছে। বুঝতেই পারছেন এখনও গ্রামের বাইরে খবরটা বেরােয়নি। মিডিয়ায়ও খবরটা আসেনি। আর সােশ্যাল মিডিয়ায় এ নিয়ে কারও কোনও স্ট্যাটাসও নেই। এইবার চিন্তা করে দেখুন ম্যাম, গ্র্যান্ড ফিনালের শুটিং এখানে হবে। সেটা নিয়ে তাে একটা হইচই হবে। মিডিয়া আসবে।
কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হাতে সময় বড্ড কম Hate Samoy Boddo Kom pdf download করুন এখান থেকে।
