যারা পরিযায়ী pdf download - অনীক চক্রবর্তী Jara Porijaye pdf by Anik Chakrabarty book pdf
দেবাদিত্য আধশোয়া হয়ে শুয়ে ছিল। সামান্য ক্লান্ত। জানলার বাইরে একটু দূরেই চা-বাগানটা দেখা যাচ্ছে। এই ক'দিনে ও চা চাষের পদ্ধতি শিখেছে। পাতা তোলা শিখেছে। ডিম আর মাংস রান্না করা শিখেছে। বিজনদার কাছে নেপালি ভাষা শিখতে শুরু করেছে। নতুন একটা হোমস্টে বানানোর প্ল্যান করা থেকে শুরু করে হাত লাগিয়েছে বাড়ি বানানোর কাজেও। চোখ লেগে এসেছিল একটু। এমন সময় আওয়াজ করে ঘরের দরজা ঠেলে বিজনদা ঢুকল। একটু জোরেই পা চালিয়ে এসেছে যেন। বিছানায় বসে বিজনদা ফেসবুক খুলল।
“এই ছেলেটাকে চিনিস দেবা? মেডিক্যাল কলেজ লেখা দেখলাম, প্লাস যদ্দুর মনে পড়ল তোদের মুভমেন্টের সময় একেও দেখেছিলাম বোধহয়। তাই ছুটে এলাম তোকে খবরটা দিতে।”
দেবা উঠে বসল। দু'-তিনবার ছবিটা দেখল, সঙ্গে লেখা পোস্টটা পড়ল। জানলা দিয়ে একটা অসম্ভব কষ্টের মেঘ ঢুকে এসে ঘিরে ধরেছে ওকে। একের পর-এক স্মৃতির বাষ্প এসে ঢেকে দিচ্ছে, ঝাপসা করে দিচ্ছে সব। ও নিজের মোবাইলটা হাতড়ে ঋকের নম্বর বের করে। কতদিন দেখা নেই, কথা নেই মানুষগুলোর সঙ্গে। ওদের মোবাইলের মেমরি কার্ডে আদৌ আছে ওর নাম? ‘আপনি যে নম্বরটি ডায়াল করেছেন তা বর্তমানে সুইচড অফ আছে।' জাভেদদা? জাভেদদার মনে আছে ওকে? আদৌ আছে এই নম্বরটা? মানুষের আগেও তার ঠিকানা পাল্টে যায়। এক
মানুষ আরেক চেনা মানুষের পুরনো ঠিকানায় গিয়ে দেখে লেখা আছে, “বড্ড দেরি করে ফেলেছেন। আপনি যে ঠিকানাটি খুঁজছেন তা আর উপলব্ধ নয়।”
আর একজনের কাছেই ছুটে যাওয়া যায় এখন। যদিও দেবার অস্বস্তি হচ্ছে তাকে কল করতে। সে স্বঘোষিত ‘অরাজনৈতিক’—দেবাদিত্যর সঙ্গে এককালে বেশ কিছুটা কথা কাটাকাটি পেরিয়ে আর কোনওদিনই সেভাবে কথাবার্তা হয়নি। দেবা বলেছিল, “ইলোরা, অরাজনৈতিক বলে কিছু হয় না। রে। সবটাই রাজনীতি।”
তার উত্তরে ইলোরা বলেছিল, “তোর কথাটার মধ্যে একদিকে একটা গর্ববোধ আছে দেবা, যে আমিই সবটা বুঝে ফেলেছি। আর অন্যদিকে একটা প্রচ্ছন্ন থ্রেট বা প্ররোচনা আছে, যে ভাই তুমি আমার বোঝাটা বোঝো। কিন্তু তোর চশমার মতোই বাকি সব্বাই তার তার চশমা লাগিয়ে একই কথা বলতে পারে তো। যে সবটাই দর্শন, বা সবটাই বিজ্ঞান, বা সবটাই স্পিরিচুয়ালিটি। তুই একভাবে পৃথিবীটা দেখিস, সেই দেখাটায় তুই কনভিন্সড, তাকেই পুরো সেট মনে করিস। কিন্তু আমার অন্য দেখা থাকতেই পারে, অন্য সেট এবং সাবসেট থাকতেই পারে।”
“সেটাও একটা রাজনীতির পার্ট।” “আগে যুক্তিবাদী হ তারপরে না হয় রাজনৈতিক হবি। সবকিছুই তোর টেমপ্লেটে পড়তে হবে, তবেই তুই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবি, বা তোকে এক্ষুনি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে এর তো কোনওটাই নয় দেবা। এত ইনসিকিয়োরিটি নিয়ে আর যাই কর রাজনীতি করিস না।”
সেই থার্ড ইয়ারের দেবাদিত্যর কাছ থেকে আজকের দেবাদিত্য অনেকখানি পথ পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক, ওর সঙ্গে ইলোরার আর কোনওদিনই কথাবার্তা হয়নি। এত বড় আন্দোলনে যে দুয়েকবার অনশন মঞ্চে এসেছিল ইলোরা সেটাও ঋকের সঙ্গে দেখা করতে। পথ কখনও এক ছিল না, তবু হঠাৎ কোনও রাস্তার পাশে দেখা হয়ে গেলেও দু'জনে দু'জনকে পেরিয়ে গেছে। অন্যদিকে তাকিয়ে।
কেটে যাওয়ার ঠিক আগে ফোনটা
তুলল ইলোরা, “দেবা! বল...” গলায় প্রাণ নেই, শুধু কাতর কিছু চাওয়া আছে।
“ইলোরা... এটা কী দেখছি রে! বিশ্বাস করতে পারছি না! কখন হল, কীভাবে হল এত কিছু? ঋক কোথায়? তুই কোথায়? ঠিক আছিস তোরা?”
“তুই কোথায় আছিস জানি না দেবা, আর আমরা কেমন আছি সেটাও জানি না ঠিক। তবে তুই এখানে থাকলে হয়তো এত কিছু ঘটত না, আর আমরাও আরেকটু ভাল থাকতে পারতাম।”
অনীক চক্রবর্তীর যারা পরিযায়ী Jara Porijaye pdf Download করুন এখান থেকে।
Tags
Various
