ঝিকিমিকি আলো - অদিতি ভট্টাচার্য Jhikimiki Alo pdf by Aditi Bhattacharja

ঝিকিমিকি আলো pdf download - অদিতি ভট্টাচার্য Jhikimiki Alo pdf by Aditi Bhattacharja book pdf

গুলঞ্চ গাছের আশপাশের নরম মাটিতে পায়ের ছাপ। একেবারে পরিষ্কার। কাল রাতে ছায়াটাও তো এ দিকেই দেখেছিলেন। তার মানে সত্যিই লোক ঢুকেছিল বাড়িতে। হারু ভুল কিছু বলেনি। এই গ্রামেও চোরের উৎপাত! নিশ্চিন্তে থাকা যাবে না? মৃণাল চিন্তিত হলেন।
মৃণালদের বাড়ি থেকে কিছু দূরে এক জায়গায় উমারঞ্জনরা রোজ বিকেলে বসে গল্প করেন। মৃণাল আজ সেখানেই গেলেন। গল্পও হবে, এখানে চোরটোরের উপদ্রব আছে কিনা তা জানাও যাবে।
“চোর!” উমারঞ্জন আকাশ থেকে পড়লেন, “দেখুন, বাগানের ফলপাকুড় গাঁয়ের দস্যি ছেলেমেয়েরা নিয়ে যায় অনেক সময়ে। ধরতে পারলে বকাবকি করি, কেউ-কেউ দু'-এক ঘা কষিয়েও দেয়, তার পর কিছু দিন সে বাড়িতে উপদ্রব বন্ধ থাকে, আবার শুরু হয়। পাড়াগাঁয়ে এ সব হয়, কিন্তু এদের কি চোর বলা চলে? আপনিই বলুন! নাকি আপনাদের বড়-বড় শহরে তা-ই বলে?”
“না না, কক্ষনও নয়, ছেলেপুলেরা ওরকম করে,” মৃণাল হাঁ-হাঁ করে উঠলেন, ইনি আবার কী ভেবে বসলেন কে জানে, “আমি কিন্তু এ সবের কথা বলিনি।”
“তা হলে কিসের কথা বলছেন? ভাল করে খুলে বলুন। না হলে বুঝব কী করে? দুম করে কেউ গাঁয়ের নামে বদনাম করলে আমাদের গায়ে লাগে মশাই, অস্বীকার করব না,” উমারঞ্জনের মুখ এখনও গম্ভীর।
“সে তো লাগবেই। লাগাই স্বাভাবিক। তবে এ গ্রাম কিন্তু আমারও। অকারণ নিজের গ্রামের বদনাম করে আমারই বা কী লাভ বলুন? যা-ই হোক, ওসব কথা থাক, আসল কথা বলি। গত কাল রাতে আমাদের বাগানে কেউ ঢুকেছিল, আমি কিছু বোঝার আগেই পালাল। রাত তখন প্রায় একটা। অত রাতে তো আর ছোট ছেলেমেয়েরা ফলপাকুড় নিতে আসবে না। তা ছাড়া হারু, মানে আমি যে-লোকটিকে রেখে গেছিলাম সে-ও বলছিল একটা লোক নাকি মাঝে-মাঝে আমাদের বাড়ির বাগানে ঘোরাঘুরি করে। ও এক দিন রান্নাঘর থেকে দেখেছে। হারু পুরনো লোক, অত্যন্ত বিশ্বস্ত। আমাদের পানিহাটির বাড়িতে বহু বছর আছে। ও মিথ্যে বলবে না। তা ছাড়া ওকে ওই শ্রীদামও নাকি কী সব বলেছে।”
“শ্রীদামের কথা বাদ দিন, ওর নিজেরই কথাবার্তা, চালচলন কিছুরই ঠিক-ঠিকানা নেই! শুনুন মশাই, এ গ্রামে চোরটোর কিছু নেই। এ গ্রামেই আমার জন্ম, বুড়ো হয়ে মরতে চললাম, এখন আপনি দু'দিন এসে যা খুশি বললেই বিশ্বাস করব? চুরি তো ওই একটিই হয়েছে। কমলদের বাড়িতে। আর কী চুরি হয়েছে, কমলরা কাদের সন্দেহ করে— সে কি আপনি জানেন না? আর মুখ খোলাবেন না মশাই!” উমারঞ্জন বেশ বিরক্ত হয়েছেন।
“কমলদের সন্দেহও খুব অমূলক বলে তো মনে হয় না! চুরি হওয়ার আগের অন্নপূর্ণা পুজোয় কী হয়েছিল শোনেননি? প্রতি বছরের মতো সে বারও তো বড় তরফের ঠাকুরদালানেই পুজো হচ্ছিল। পুজো শুরু হল কী না হল, ঘট নড়ে উঠল। ভটচায্যি মশাই কোনও রকমে কাঁপতে-কাঁপতে পুজো সেরেছিলেন। তখনই উনি বলেছিলেন, ‘মা রুষ্ট হয়েছেন, কোনও অন্যায় হয়েছে বা কেউ করতে যাচ্ছে!' আপনি এ সব কথা মানবেন কিনা জানি না, না-ও মানতে পারেন, আপনার মর্জি, তবে আমরা মানি। বড় তরফের কেউও তখন মানেনি, উল্টে ভট্টচায্যি মশাইয়ের নামে চাট্টি আজেবাজে কথা বলল। তক্ষুনি-তক্ষুনি তো আর কিছু হয়নি, তার বেশ কয়েক মাস পরে চুরি হল। তখন আবার বড় তরফের বিজন মজুমদার এ বাড়িতে। কিছু দিন সেই নিয়ে জল ঘোলা হল, কাজের কাজ অবশ্য কিছুই হয়নি। তবে পুজো কিন্তু বন্ধ হয়ে গেল। মুখে যত যা-ই বলুক না কেন, আর পুজো করার সাহস হল না। সাহস করলে তো পুজো হত এ বছর। তা এমন বাড়িতে অনেক কিছুই ঘটতে পারে। মা'র কোপে পড়া কি খুব ভাল কথা?” আর-এক জন বললেন।
“যাক গে, মরুক গে, যার বাড়িতে ঘটছে সে বুঝুক, আমাদের কী?” উমারঞ্জন বললেন, সেই রকম বিরক্ত হয়েই, “কিন্তু বেমক্কা আপনি আমাদের গ্রামের বদনাম করবেন সে আমরা মেনে নেব না— এ পষ্ট বলে দিলাম। আমাদের কথা বিশ্বাস না হয়, যান না সারা গ্রাম ঘুরে-ঘুরে জিজ্ঞেস করে বেড়ান, দেখুন সবাই কী বলে।”
মৃণাল বুঝলেন এঁদেরকে কিছু বলা বৃথা। এঁরা মানবেনই না। অবশ্য শুধু এঁরা কেন? কমলদের বাড়িতেও তো গেছিলেন। ওঁদের বাড়ির পাশেই তো কমলদের বাড়ি, ভেবেছিলেন নিজে গিয়ে কথা বললে হয়তো সদ্ভাবটুকু বজায় থাকবে। তা-ও কি হল? হল না। মৃণালদের সঙ্গে মৌখিক সম্পর্কটুকু রাখতেও যে ওঁরা একেবারে আগ্রহী নন, সে কথা স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ওঁরা এখনও কী ধারণা পোষণ করে চলেছেন, তার আন্দাজ ঠিকই পেয়েছিলেন মৃণাল।

অদিতি ভট্টাচার্যের ঝিকিমিকি আলো Jhikimiki Alo pdf download ডাউনলোড করুন এখান থেকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post