মাসাইমারার বিশল্যকরণী pdf download - সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায় Masaimarar Bishalykarni pdf by Sarbani Bandopadhyay book pdf
জিপ রওনা দিয়েছে বেশ খানিক ক্ষণ। মাসাইমারার ঘন অরণ্যের মধ্যে ঢুকতে-ঢুকতে ওর আবার মনে হচ্ছিল সেই কথাটা। গাছপালার রং সবুজ না-হলে মানাত কি? বিজ্ঞানের দিক থেকে যে কারণই থাক এই সবুজ রঙেই গাছপালা সার্থক। তার লাবণ্য খুলেছে এই রঙেই। তাই বুঝি প্রকৃতি জলে, আকাশে নীল গুলেছে। মাটিতে লাল, গেরুয়া, বাদামি, মেটে, কালো যখন যা ইচ্ছে রং বরাদ্দ করলেও গাছপালার জন্য সবুজ রংটাই বেছে রেখেছে।
ওর নিজের সবুজ নামটা খুবই পছন্দের। নাম রেখেছিলেন দাদু। ওঁর বাগান করার শখ ছিল। অদ্ভুত ভাবে গাছপালার প্রতি সবুজেরও ভীষণ টান আছে। মাসাইমারার জঙ্গলে আসার ইচ্ছেও বহু দিনের। মাধ্যমিকের ভাল রেজাল্টের পর বাবার কাছে সেই ইচ্ছেটা পেশ করেছিল ও। কলকাতা থেকে দিল্লি এয়ারপোর্ট হয়ে আদ্দিস আবাবায় কিছু ক্ষণ হল্ট করে, পরের ফ্লাইটে সন্ধেবেলা ওরা এসে নেমেছিল নাইরোবিতে। এয়ারপোর্টেই নিউটন আর তার হুডতোলা গাড়ির সঙ্গে ওদের পরিচয়। নাইরোবি শহর সম্বন্ধে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল ওদের। বিদেশিদের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। তাই বারবার মনে হলেও গাড়ি থেকে নেমে এক পাক ঘুরে আসার ইচ্ছেটা, সবুজকে বাতিল রাখতে হয়েছিল।
আফ্রিকার কেনিয়ায় অবস্থিত এই মাসাইমারার অরণ্য। অনেক দিনই আসার ইচ্ছে, তাই বাবার সম্মতি পেয়ে ইন্টারনেটে এই ‘ব্লু- ফক্স' কোম্পানির সঙ্গে ও-ই যোগাযোগ করে। জুলাই মাসটা বেছে নেওয়ার কারণ, এই সময় লাখ-লাখ জন্তু-জানোয়ার খাদ্যের সন্ধানে স্থান পরিবর্তন করে। সেই ঘটনাটাই 'মাইগ্রেশান' নামে বিখ্যাত। এখানকার আবহাওয়ায় একটা অদ্ভুত বৈচিত্র আছে। জুনে বর্ষা আসে আর প্রবল বৃষ্টিপাতে বড়-বড় ঘাস জন্মায়। কেনিয়া থেকে সেরেঙ্গেটি বা সেরেঙ্গেটি থেকে কেনিয়ায় বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে তৃণভোজী প্রাণীরা। ঘাস খাওয়ার জন্য তারা দলে-দলে রওনা দেয়। ওয়াইল্ড বিস্ট, জেব্রার পালের পিছন পিছন দল বেঁধে যায় অন্যান্য মাংসাশী প্রাণী। ওই ওয়াইল্ড বিস্ট আর জেব্রারা ওদের খাদ্য। এই দল বেঁধে লাখ-লাখ প্রাণীর স্থান পরিবর্তন দেখতেই সবাই মাসাইমারা আসে। তাই জুলাই মাসের মাঝামাঝি, দুপুরেই ওরা দিল্লির ফ্লাইট ধরতে দমদমের দিকে রওনা দিয়েছিল। জানা ছিল, ওরা ছাড়াও আরও চার জন ওদের সঙ্গে আফ্রিকাতেই যোগ দেবে। এখন গন্তব্য মাসাইমারা রিসর্ট।
গত রাতটা নাইরোবিতেই কেটেছে। হোটেলের ঘর ছিল ভাল রকম বিলাসবহুল। ডিনারের ব্যবস্থাও চমৎকার। বিছানা এত নরম, বসলেই ডুবে যেতে হয়। মা'র সঙ্গে শুয়েও সবুজ অনেক ক্ষণ জেগে ছিল। ঘুম আসছিল না। ওর মন বার বার বলছিল মাসাইমারা ভ্রমণ খুব সহজ হবে না। আর ওর মন তো খুব একটা ভুল কথা বলে না। ভাবতে-ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে।
রাতের হোটেলের চমৎকার ডিনারে অলীকবাবু আসেননি। ওঁর শরীর নাকি ভাল নেই। অথচ রাতে ও নিজে উপরের ব্যালকনি থেকে অলীকবাবুকে বাগানে পায়চারি করতে দেখেছে। স্বাভাবিক বোধ না করলে কেউ হাঁটতে যায়? তবে কাউকে কিছু বলেনি।
সকালে গরম জলে স্নান সেরে চটপট রেডি হয়ে নিতে হল। ওরা একেবারে খেয়েদেয়ে জিপে উঠল। গাড়ি বেশ অনেক ক্ষণই দাঁড়িয়েছিল।
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাসাইমারার বিশল্যকরণী Masaimarar Bishalykarni pdf download ডাউনলোড করুন এখান থেকে।
Tags
Various
