কাবুস - অর্পিতা অরণ্যানী চ্যাটার্জী Kabus pdf by Arpita Chatarji

কাবুস pdf download - অর্পিতা অরণ্যানী চ্যাটার্জী Kabus pdf by Arpita Chatarji book pdf

মাঠের মধ্য দিয়ে তরুণ দৌড়াচ্ছে, বোঝা যাচ্ছে বহুক্ষণ দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে তার শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়েছে কিন্তু তবুও সে থামাতে পারছে না দৌড়াতে দৌড়াতেই বারবার পিছন ফিরে আতঙ্কিত চোখে কিছু একটা দেখার চেষ্টা করছে আর দৌড়াচ্ছে, দূরে একটা নারীমূর্তির অস্পষ্ট অবয়ব দেখা যাচ্ছে! অনেকটা ঊষার মতো দেখতে না? হ্যাঁ ঊষাই তো! সেই ডাগর চোখ দুটি, ছোট নাক এক মাথা কালো চুল এর ঢল কাঁধ বেয়ে কোমর অব্দি নেমে এসেছে । দৌড়াতে দৌড়াতে তরুণ ঊষার কাছে চলে এসেছে। ঊষা খিলখিল করে হাসছে। ও কি বুঝতে পারছ না কোন বিপদ অপেক্ষা করে আছে ওদের জন্য? তরুণ ঊষার হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবার চেষ্টা করল! কিন্তু না! এক চুলও নাড়াতে পারছেনা ঊষাকে, "ঊষা দেরি করোনা, দৌড়োও চলো" বলেই ঊষার দিকে তাকিয়ে হাঁপাতে লাগল তরুণ! কিন্তু একী! এ কার হাত ধরে আছে সে? একটা আধপোড়া নারী দেহ! জায়গা জায়গা থেকে গলে পড়ছে মাংস! বিশ্রী মাংস পোড়া গন্ধে গা গুলিয়ে উঠছে তরুণের! ঊষার সুন্দর মুখটা বদলে গিয়ে একটা আধপোড়া ভয়ানক মুখ সেখানে ফুটে উঠেছে! মুখের এক পাশের মাংস সরে গিয়ে সেখানে বেরিয়ে পড়েছে চোয়ালের সাদা হাড়! একটা চোখ গলে পড়ছে সেই অবস্থায় সেই ভয়ালদর্শন মূর্তি পৈশাচিক হাসি হাসতে হাসতে বলল "বাবুজি, ক্যায়া হুয়া বাবুজি?" তরুণের গলা শুকিয়ে গেছে, আপ্রাণ চেষ্টা করছে ওই পিশাচিনীকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার, আপ্রাণ চেষ্টা করছে আর সেই চেষ্টা করতে করতেই ধুম করে খাটিয়া থেকে পড়ে গেল উদয়পুর স্টেশনের নতুন স্টেশন মাস্টার তরুণ গঙ্গোপাধ্যায়।

খাট থেকে পড়ে যেতেই পাশে রাখা টেবিলের সাথে কপাল ঠুকে গেল। পুরো ব্যাপারটাই তাহলে স্বপ্ন ছিল নেহাত? তখনই আবার সেই গলা "বাবুজি কেয়া হুয়া? দরওরাজা খোলো!"
মুহূর্তের জন্য মুখটা ফ্যাকাসে হয়ে গিয়েও পরমুহুর্তেই আপন মনে হেসে ফেলল তরুণ। তারপর কপালে হাত বুলোতে বুলোতে উঠে গিয়ে দরজাটা খুলে দিল সে। দরজা খুলতেই একটি বছর সতেরো আঠেরোর মেয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল। "আরে আপনার কপালটায় কী হয়েছে বাবুজি?"
"আহ্ ঊষা, কতবার বলেছি না আমাকে বাবুজি বলে ডাকবে না "তো হাম ক্যায়া কারে? আপ বাবুজি হো, সেই জন্যেই তো বাবুজি বলি"
"বাপরে! 'সেই জন্যেই তো'-আজকে কিন্তু তোমায় বলতেই হবে তুমি এত ভালো বাংলা কোথা থেকে শিখলে? "
ঊষা অর্থাৎ ঊষারাণী বাল্মিকী এই গুজরাটের ছোট্ট গ্রাম উদয়পুরের মেয়ে। এক মাথা খোলা কালো চুলের ঢল কোমর ছাড়িয়েছে। ওদের সম্প্রদায়ের মেয়েদের এই বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। কিন্তু ওর যার সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল বিয়ের দুই দিন আগে ট্রেনে কাটা পড়ে সে মারা যায়। সেই থেকে ঊষা অলুক্ষুণে। সেই কারণেই এখনো কোনো মরদ হয়নি ওর। আঠারো বছরের সদ্যযৌবনা চঞ্চল ডাগর চোখের কৃষ্ণাঙ্গী মেয়েটি বাংলা ভাষায় মন্দ কথা বলেনা। কিন্তু যখনই তাকে তরুণ জিজ্ঞেস করে কোথা থেকে সে বাংলা বলতে শিখেছে, তখনই তার মুখটা মসীমাখা মেঘের ন্যায় গুমোট হয়ে ওঠে। আজও তার ব্যতিক্রম হল না।

অর্পিতা অরণ্যানী চ্যাটার্জী কাবুস Kabus pdf download করুন এখান থেকে।

Post a Comment

Previous Post Next Post