পিন্টুমামার সড়ক আবিস্কার - ঋতা বসু Pintomamar Sarak Abishkar pdf by Writa Basu

পিন্টুমামার সড়ক আবিস্কার - ঋতা বসু Pintomamar Sarak Abishkar pdf by Writa Basu

মনটাকে অনেকক্ষণ হল সাদা পাতা করে ফেলেছি কিন্তু আখরের দেখা নেই। হঠাৎ তুলি বলল, “বারোনামের বারো যদি নাও তার দুইগুণ চব্বিশ। আর কিছু বুঝতে পারছি না।” পিন্টুমামা ভারী খুশি হয়ে তুলির পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল, “তুই একেবারে বুলস আই হিট করেছিস!”
জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে পিন্টুমামা ঢিলেঢালা ভাব ছেড়ে ব্যস্ত হয়ে বলল, “তোরা বড় দেরি করিয়ে দিস। দেখ তো কত রাত হয়ে গেল। বাবা এসে বলবে আমি তোদের মাথা খাচ্ছি।”
মা বলল, “এবার তাড়াতাড়ি শেষ করো। মাংসের কোর্মাটা দমে বসে থেকে গলে গেল বোধ হয়।”
রান্না শেষ শুনে পিন্টুমামা গল্পের ঘোড়া ছুটিয়ে দিল, “কানোয়ার আমারই মতো গ্রামের মধ্যে ঘুরেফিরে সময় কাটায়। পুরুষোত্তমের দেশ কাছেই। সে মাঝে-মাঝেই উধাও হয়ে যায়। তবে দু'জনেই আমার এই আলস্যে দিন কাটানো দেখে অধৈর্য হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে একদিন তাদের বলেই ফেললাম, ‘এখানেই মনে হয় পীতাম্বর তার যাত্রা শেষ করেছিল।'
“আমি ততদিনে মাথা ঘামিয়ে, জিজ্ঞাসাবাদ করে ধাঁধার রহস্যভেদ করে ফেলেছিলাম। পীতাম্বরের সংকেত অনুযায়ী এটাই যে সেই জায়গা তাতে কোনও সন্দেহ নেই, কারণ আদতে এই জায়গাটার নাম ছিল চব্বিশপুরী। তুলির বারো দুগুণে চব্বিশ লোকের মুখে-মুখে ছবিশপুরী হয়ে গিয়েছে।
“প্রথমে ছবিশপুরী জায়গাটার বৈশিষ্ট্য ধরতে পারিনি। একদিন খুব হইহই শুনে দেখি হাইওয়ে দিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে মিছিল করে ঘোড়ায় চড়ে বর আসছে। সেই হইহল্লা এসে থামল কমিউনিটি সেন্টারে।
“বাংলা বা ওডিশা, কোথাও ঘোড়ায় চড়ে বর আসে না। এটা পঞ্জাবিদের রীতি। মাথার মধ্যে একসঙ্গে অনেক আলো জ্বলে উঠল।
“শুনলাম ছবিশপুরীতে কয়েকঘর লোক আছে যারা এমনিতে স্থানীয়, কিন্তু অদ্ভুত কিছু নিয়মকানুন পালন করে। ওই সাদা বাড়িটা তাদেরই সম্পত্তি।
“পরদিনই গেলাম সেই বাড়িটায়। হাইওয়ে থেকে একটু নেমে অজ পাড়াগাঁয়ের সাদামাটা বাড়ি। বাউন্ডারি ওয়াল বলে কিছু নেই। গোরু চরছে এদিক ওদিক। কতগুলো বাচ্চা ছেলে বটের ঝুরি ধরে দোল খাচ্ছে। চারদিকে রাবিশ আবর্জনা-পাথর-আগাছায় ভর্তি।
“কেয়ারটেকার গোছের একটা পরিবার আছে। কর্তা বোধ হয় কাজে গিয়েছে। গিন্নিকে ঘরটা দেখব বলায় খুবই অবাক হল। একটা জিরজিরে তালা খুলে ঘরে ঢুকতে-ঢুকতে সে বলল, ‘দুষ্টু ছেলেগুলোর জন্য বন্ধ রাখতে হয়। নয়তো গ্রন্থসাহেব ছাড়া আর তো কিছুই নেই চুরি করার মতো।' “বাংলা-ওডিশা সীমান্তে জগন্নাথ সড়কের গা ঘেঁষে একটা গণ্ডগ্রামে গ্রন্থসাহেবের মানে বুঝতে পারছিস তো? আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। বউটিকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, রোজ ফুল-চন্দন দিয়ে পুজো করে এরা। বইটা কেউ পড়েনি। কী লেখা আছে তাও জানে না। পূর্বপুরুষরা পুজো করত, তাই এরাও করে।

ঋতা বসু এর pdf book পিন্টুমামার সড়ক আবিস্কার pdf download করুন এখান থেকে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post